আজকের দিনটি বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ফেসবুক আজ ২০ বছরে পা দিল। মার্ক জাকারবার্গের হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুধু একটি ওয়েবসাইটের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আধুনিক বিশ্বের অন্যতম প্রধান যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মার্ক জাকারবার্গ তার সহপাঠীদের সঙ্গে মিলে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে "দ্য ফেসবুক" নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেন, যা পরে শুধুমাত্র "ফেসবুক" নামে পরিচিত হয়। প্রথমদিকে এটি হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায় এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ২০০৬ সালে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, এবং সেই থেকে ফেসবুকের বিস্তৃতি আর থেমে থাকেনি।
বর্তমানে ফেসবুকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস শুধু ফেসবুক নয়, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেসেঞ্জারের মতো জনপ্রিয় সেবা নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, ফেসবুকের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২.৯৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ফেসবুকের জনপ্রিয়তা যেমন বেড়েছে, তেমনি এটি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিতর্ক, ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এবং বিভিন্ন দেশে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে ফেসবুক। চীন, ইরান, সিরিয়া এবং কখনো কখনো বাংলাদেশসহ কিছু দেশে এটি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ছিল বা রয়েছে।
তবে প্রযুক্তিগত দিক থেকে ফেসবুক অনেক উদ্ভাবন এনেছে। ২০০৮ সালে ফেসবুক চ্যাট চালু হয়, যা বর্তমানে মেসেঞ্জার হিসেবে আলাদা প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। ২০১২ সালে ইনস্টাগ্রাম অধিগ্রহণ, ২০১৪ সালে হোয়াটসঅ্যাপ কেনা এবং ২০২۱ সালে ফেসবুক ইনকর্পোরেটেডের নাম পরিবর্তন করে "মেটা" রাখা হয়—এসব পরিবর্তন ফেসবুকের অগ্রগতির বড় উদাহরণ।
ফেসবুক এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), এবং মেটাভার্স প্রযুক্তিতেও ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ভবিষ্যতে ফেসবুকের ভূমিকাটি আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০ বছর পরেও ফেসবুকের জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে এটি তার অবস্থান ধরে রেখেছে। আগামীর দিনে ফেসবুক কোন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব।