সিলেট জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাধা দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাংলাদেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজে ভারতীয় বিএসএফ বাধা দিচ্ছে। এমনকি বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ না করলে সরাসরি গুলি ছোড়ার হুমকি দিচ্ছে। বিএসএফের হুমকির ফলে গত ৪ মাস ধরে ৩০টি স্থানে বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে করে আগামী বর্ষা মৌসুমে সিলেট, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার, সুনামগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর অঞ্চলের ১৪-১৫টি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারত কোনোভাবেই বাধা দিতে পারে না। এ ধরনের বাধা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। তিনি ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বাংলাদেশকে বেড়িবাঁধ নির্মাণে বাধা প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই ভারতের বাধা উপেক্ষা করে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে ৮০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর প্রায় ৬৬ কিলোমিটার অংশ সীমান্ত নদী হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে কুশিয়ারার ৪১ কিলোমিটার ও সুরমার ২৫ কিলোমিটার আন্তসীমান্ত নদী। গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় সুরমা-কুশিয়ারার বেড়িবাঁধের অন্তত ৩০টি স্থান ভেঙে পানি প্রবেশ করে জনপদে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বন্যা-পরবর্তী সময়ে সেই বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএসএফের বাধার কারণে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া, ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার নিজকালিকাপুর সীমান্তে মুহুরী নদী সংলগ্ন বল্লারমুখা বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণেও বিএসএফের বাধার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাঁধের কিছু অংশ নোম্যান্সল্যান্ডে পড়েছে দাবি করে বিএসএফ বাঁধা প্রদান করে, ফলে মেরামত কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনগণ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণে দুই দেশের সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন, যাতে উভয় দেশের জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।