হাসি শুধুমাত্র আনন্দের প্রতীক নয়, বরং এটি মানসিক চাপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি ‘জার্নাল অফ পজিটিভ সাইকোলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণাটি বলছে, কঠিন পরিস্থিতিতে হাসি মানুষের হৃদস্পন্দনের হার নিয়ন্ত্রণ করে এবং মানসিক চাপ কমায়।
গবেষণার বিবরণ
গবেষণাটি চালানো হয়েছে মোট ৫৭ জন ব্যক্তির উপর। তাঁদের হাত বরফশীতল পানিতে চুবিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সাধারণত কোনও ব্যক্তির যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষার সময় অংশগ্রহণকারীদের হৃদস্পন্দনের হার এবং মুখের অভিব্যক্তি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা।
চমকপ্রদ ফলাফল
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা পরীক্ষার সময় হাসছিলেন তাঁদের হৃদস্পন্দনের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সাধারণত কষ্ট বা উদ্বেগের সময় হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যায়, কিন্তু হাসির ফলে তা স্থিতিশীল থেকেছে। গবেষকদের মতে, হাসি শারীরিক যন্ত্রণা কমাতে না পারলেও, যন্ত্রণা থেকে উদ্ভূত মানসিক চাপ লাঘব করতে সক্ষম। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অধিকতর রিলাক্সড বোধ করেছেন।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
এই ঘটনাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ফেসিয়াল ফিডব্যাক হাইপোথিসিস’। অর্থাৎ, আমাদের মুখের অভিব্যক্তি মস্তিষ্কে বিশেষ সংকেত প্রেরণ করে, যা মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে। ফলে হাসি শুধু আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি মানসিক প্রশান্তিরও নির্দেশক।
গবেষকদের পরামর্শ
গবেষকরা বলছেন, উদ্বেগ বা কষ্টের মুহূর্তে হাসি ধরে রাখার অভ্যাস করা উচিত। এটি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই, আনন্দের মুহূর্তেই নয়, বরং কঠিন সময়েও হাসিমুখে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলাই শ্রেয়।