বাংলা সাহিত্যের অন্যতম স্বনামধন্য লেখক ও মুক্তচিন্তার প্রবক্তা শওকত ওসমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মসূত্রে তাঁর নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
শওকত ওসমান বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন সাহিত্যিক। তাঁর সৃষ্টিকর্মে গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুতোষ সাহিত্য, রম্যরচনা ও রাজনৈতিক লেখার সমাহার রয়েছে। মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতির বিকাশে তিনি আজীবন নিবেদিত ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
শওকত ওসমানের সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস হলো “ক্রীতদাসের হাসি”, যা বাংলা সাহিত্যে অনন্য স্থান দখল করে আছে। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে “জননী,” “দুই সৈনিক,” “নেকড়ে অরণ্য” এবং “রাজা উপাখ্যান”। তিনি প্রবন্ধ, ছোটগল্প, নাটক এবং স্মৃতিকথাও লিখেছেন, যার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।
জীবন ও কর্ম
কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪১ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন এবং দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গে চলে আসেন। পরে চট্টগ্রাম এবং ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করেন।
সম্মাননা ও পুরস্কার
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), একুশে পদক (১৯৮৩), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৭) সহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি
শওকত ওসমান আজও তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে বেঁচে আছেন। তাঁর জন্মদিনে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠন আলোচনা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
শওকত ওসমানের সাহিত্যিক আদর্শ ও মুক্তচিন্তার উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।