জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান: "দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ, বাইরের দেশ নয়"

Date: 2024-12-30
news-banner

ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে দেশের ভবিষ্যৎ। কোনো বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। একটি দেশ নির্বাচন এলেই ঠিক করে দেয় কে হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তবে এবার সেই সুযোগ আর নেই। দেশের জনগণই ঠিক করবে কে ক্ষমতায় থাকবে।”

ডা. শফিকুর রহমান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া একটি টুইটের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভারত বাংলাদেশের বিজয়ের জন্য নিজেদের ভূমিকা বেশি বলে দাবি করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের বিজয় শুধু বাংলাদেশের জনগণের।”

জামায়াত আমির বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে পারিনি। আমাদের তরুণদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ সচেতন হচ্ছে এবং এই ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছে।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার বিচারিক আদালতের নামে বিনা অপরাধে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দিয়েছে। এ দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। গত ১৫ বছরে ২৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এর জন্য কারা দায়ী তা দেশের জনগণ জানে।”

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁও জেলা এখনো উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এ জেলার মানুষের অনেক দিনের দাবি হলো একটি বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা, একটি মেডিকেল কলেজ এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। এসব দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানাই।”

সমাজে বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ সমান অধিকারে বসবাস করবে। দুর্নীতি, অন্যায় এবং বৈষম্য থেকে মুক্ত থাকবে বাংলাদেশ।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় নেতারা এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতারা। সবাই দেশের উন্নয়ন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। অংশগ্রহণকারীরা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে জামায়াতের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Leave Your Comments