রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ সকাল ৮টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর প্রকাশ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগঠনের সদস্য পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সরাসরি অংশ নিয়েছেন।
প্রকাশ্যে সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পাওয়ার পর, এটি ১৫ বছরের অধিক আওয়ামী লীগ শাসনের পর প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের মাধ্যমে ২০২৫ সেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতির নাম ঘোষণা করা হবে। এই নির্বাচন উপলক্ষে ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর রাত ৯টা পর্যন্ত সদস্যরা অনলাইনে ভোট প্রদান করেছেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। পুরো এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। সদস্যরা দীর্ঘদিন পর এমন একটি বড় পরিসরের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত।
সম্মেলনটি দুটি সেশনে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম সেশনে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উন্মুক্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় সেশনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কার্যকরী সেশন পরিচালিত হবে।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শিবিরের ঐতিহ্য অনুযায়ী, সম্মেলন উদ্বোধন করেন একজন শহীদের পিতা।
কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সাদেক আবদুল্লাহ জানান, এ সম্মেলনে শুধুমাত্র সংগঠনের সদস্য পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কর্মী, সমর্থক বা সাথীদের এ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার অনুমতি নেই।
একই দিনে শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি থাকার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই কর্মসূচির সংযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সাদেক আবদুল্লাহ বলেন, “আমাদের সম্মেলনের দিনক্ষণ আগেই নির্ধারিত ছিল। বৈষম্যবিরোধী সমাবেশের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের মধ্যেও আমরা সদস্য সম্মেলন করেছি। করোনাকালীন সময়ে অনলাইনে হলেও নিয়মিত সম্মেলন পরিচালিত হয়েছে। এবারও তা-ই হচ্ছে।”
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রকাশ্যে এই সম্মেলন আয়োজন করতে পেরে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। সম্মেলনটি শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে পরিচালনার জন্য আয়োজকরা প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছেন।