২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১১টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
খন্দকার মাহবুব হোসেন ১৯৩৮ সালের ২০ মার্চ বরগুনা জেলার বামনা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা নটরডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যয়ন শেষে তিনি ১৯৬৭ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন বরেণ্য আইনজীবী ছিলেন এবং ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৭৩ সালে দালাল আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আদালতের প্রধান কৌঁসুলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ তিনি দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের মামলা পরিচালনা করেছেন।
২০০৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং পরে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে বরগুনা-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেনের জীবনে ভাষা আন্দোলন এবং পাকিস্তান আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি আইনজীবী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খন্দকার মাহবুব। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মৃত্যুর পর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে ঢাকার আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়।