গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আপাতত দলটি কোনো জোটে যোগ দিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই কথা জানান।
নুর বলেন, "সমমনা জোট যারা আমাদের নেতৃত্বে পরিবর্তনের জন্য কাজ করবে তাদের নিয়ে একটি জোট গঠিত হতে পারে, তবে আপাতত আমরা কোনো জোটে যোগ দিচ্ছি না। ছাত্ররা আমাদের অনুজ, অনেকে আমাদের সহকর্মী ছিল। তারা একটি দল গঠনের চেষ্টা করছে, আমরা তাদের জন্য শুভকামনা জানাই। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোনো জোট করার বিষয়ে আলোচনা হয়নি, কারণ তারা এখনও দলই গঠন করেনি।"
নুরুল হক নুর প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে বলেন, "অনেকদিন ধরেই প্রবাসীরা ভোটাধিকারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা দেশের জন্য অর্থ পাঠালেও যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পান না। আমরা জানতে চেয়েছি, আগামী নির্বাচনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন কী উদ্যোগ নিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে কাজ করছে।"
নুর বলেন, "সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য দক্ষ ও পেশাদার প্রশাসনের প্রয়োজন। বিগত ১৬ বছরে প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে, যার ফলে ভোট কারচুপি ও অনিয়মের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে প্রশাসনের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তারা যেন কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার শিকার না হন। এই বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করতে হবে।"
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের দাবিনুরুল হক নুর আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে বলেন, "আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের নিবন্ধন বাতিল হবে।"
এর আগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে রাশেদ খানসহ আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।