জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে স্থানীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনাররা স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। তাই তারা স্থানীয় নির্বাচন চান এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে এটি হওয়া উচিত বলে মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে, কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্যও স্থানীয় নির্বাচন হওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপি সরাসরি স্থানীয় নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আগে জাতীয় নির্বাচন চায়। অন্যদিকে, জামায়াত ও জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা স্থানীয় নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিতে চান।
এছাড়া, গণহত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলেও নিশ্চিত করেছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তবে যারা অন্যায় ও অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত নন, তারা ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে গণহত্যার মামলায় অভিযুক্তরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া উচিত কিনা, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও সরকারের করণীয় নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।