ভারতীয় সেনাপ্রধান: "বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিদ্বেষমুক্ত পরিবেশে স্থায়ী হতে পারে"

Date: 2025-01-13
news-banner

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্বেষ কোনও পক্ষের জন্যই সুফল বয়ে আনতে পারে না। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভারতীয় সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে এই মন্তব্য করেন।

জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “আমরা প্রতিবেশী। আমাদের একসাথে থাকতে হবে, একে অপরকে বুঝতে হবে এবং কোনও ধরনের শত্রুতা আমাদের স্বার্থের জন্য ভালো হবে না।’’ তিনি জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়েছে।

ভারতীয় সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘‘সম্প্রতি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান যে মন্তব্য করেছিলেন তা মনে করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেছেন, কৌশলগত দিক থেকে ভারত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক যেমন আমাদের জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ।’’

দ্বিবেদী আরও বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তের অধিকাংশই ভারতের সঙ্গে এবং একটি ছোট অংশ মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্ত। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনও ধরনের সমস্যার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ‘‘আমাদের সামরিক কর্মকর্তারা বাংলাদেশে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) যোগ দিয়েছেন। এই বিষয়ে কোনও ছাড় নেই। তবে যৌথ সামরিক মহড়া, যা পূর্বে অনুষ্ঠিত হতো, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নত হলে সেই মহড়া আবার চালু হবে।’’

গত আগস্টে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে ভারতীয় সেনাপ্রধান এই বিষয়ে বলেছেন, সামরিক স্তরে যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং সম্পর্কের কোনও অবনতি হয়নি। তিনি আরও জানান, গত বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তার কথা হয়েছে।

বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন জেনারেল দ্বিবেদী। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীর পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক একদম সঠিক অবস্থানে রয়েছে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সেনাবাহিনীর সম্পর্ক আরও মজবুত করার অঙ্গীকার করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান। বর্তমান রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিস্থিতিতে তার এই মন্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave Your Comments