বিবাহিত পুরুষদের প্রতি মহিলাদের আকর্ষণের রহস্য উন্মোচিত

Date: 2025-02-20
news-banner
ভালবাসা এমন এক অনুভূতি, যা বয়স বা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে না। কারো প্রতি আকর্ষণ জন্মাতে পারে হঠাৎ, আবার দীর্ঘদিনের বোঝাপড়ার পরও তা গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য—বিবাহিত পুরুষদের প্রতি মহিলারা বেশি আকৃষ্ট হন।
গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য'জার্নাল অফ হিউম্যান নেচার' নামক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অনেক মহিলাই অন্য মহিলাদের পছন্দকে অনুসরণ করেন। অর্থাৎ, যখন এক মহিলা কোনও পুরুষকে আকর্ষণীয় মনে করেন, তখন অন্যান্য মহিলারাও সেই একই পুরুষের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এই মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াকে গবেষকরা ‘মহিলা অনুকরণ প্রবণতা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
মানসিক আকর্ষণের গুরুত্বঃ
গবেষকদের মতে, শারীরিক আকর্ষণের চেয়ে মহিলারা মানসিক আকর্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ মহিলা এমন পুরুষদের পছন্দ করেন, যাঁরা ইতিমধ্যেই কোনও না কোনও স্থায়ী সম্পর্কে রয়েছেন। বিশেষ করে তরুণীরা বিবাহিত বা সম্পর্কে থাকা পুরুষদের অভিজ্ঞ ও নিরাপদ মনে করেন।
বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতাঃ
বেশিরভাগ মহিলার মতে, বিবাহিত পুরুষরা বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য। কারণ তাঁরা ইতিমধ্যেই একটি সম্পর্কে তাঁদের প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্বশীলতা প্রমাণ করেছেন। একটি সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ববোধ, স্থিতিশীলতা ও পরিপক্বতা বিবাহিত পুরুষদের মধ্যে বেশি থাকে বলে মনে করেন গবেষকরা।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, বিবাহিত পুরুষদের জন্য নতুন সম্পর্কে জড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু যখন তাঁরা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন, তখন তা বোঝায় যে সেই পুরুষ বিশেষ কোনও কারণে দ্বিতীয় মহিলার জন্য বড়সড় ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এই আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা অনেক মহিলার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে, যা অনেক মহিলার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিকতাঃ
এই গবেষণা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এটি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মনস্তত্ত্ব অনেক জটিল এবং আকর্ষণের বিষয়টি কখনও কখনও যুক্তির চেয়েও প্রবৃত্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল।
এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্ক ও মানব আচরণের নতুন দিকগুলোকে বুঝতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এটি ব্যাখ্যা করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা।

Leave Your Comments