আজ ৩০ ডিসেম্বর: সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসির ১৮ বছর

Date: 2024-12-30
news-banner

আজ ৩০ ডিসেম্বর, ইতিহাসের সেই দিন, যখন ২০০৬ সালে ইরাকের সাবেক রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। দীর্ঘ ২৪ বছর ইরাকের শাসনক্ষমতায় থাকা সাদ্দাম, যিনি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিতর্কিত নেতা ছিলেন, তাঁর পতন ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা আজও বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচিত।

২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি তাঁর মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে তখনকার প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানি নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেছিলেন এবং এ বিষয়ে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন।

১৯৭৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সাদ্দাম হোসেন ইরাককে আধুনিকীকরণ ও আরব জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে শাসন করেন। কিন্তু ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী ইরাক আক্রমণ করে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, সাদ্দাম গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছেন এবং সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে তাঁর সখ্য রয়েছে।

যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও ওই অভিযানে সাদ্দাম ক্ষমতাচ্যুত হন। তাঁর শাসনের পতনের পর ইরাকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ১৯৮২ সালে দুজাইল গ্রামে ১৪৮ জন শিয়া মুসলমানকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হয়। আদালতের রায়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

সেই সময় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটি ‘বিজয়ীর বিচার’ বলে উল্লেখ করেন। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এ বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছিল বলে সমালোচনা উঠে।

সাদ্দামের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ইরাকসহ বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইরাকের শিয়া সম্প্রদায় এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করলেও, সুন্নি সম্প্রদায় এবং আরব বিশ্বের অনেকেই এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে অভিহিত করে।

সাদ্দামের সমর্থকরা তাঁর মৃত্যুকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের কৌশল হিসেবে দেখেন। এ ঘটনা ইরাকের রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব আরও গভীর করে।

সাদ্দাম হোসেনের শাসনামল যেমন কঠোর ও বিতর্কিত ছিল, তেমনি তাঁর পতন ইরাকের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। তার শাসনের সময় আরব জাতীয়তাবাদ, ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রভাব ইরাকের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

আজ, সাদ্দামের মৃত্যুদণ্ডের ১৮ বছর পরও তাঁর শাসন ও পতনের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। 



Leave Your Comments